শুক্রাণুদাতা শিশুর বৈধ বাবা,অস্ট্রেলিয়া আদালতের রায়

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

শুক্রাণুদাতা এক ব্যক্তিকে ১১ বছরের একটি মেয়ে শিশুর বৈধ বাবা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট।

শিশুটির জীবনে ওই ব্যক্তির সক্রিয় উপস্থিতি থাকায় তার ব্যাপারে তাকে বাবা হিসাবে সিদ্ধান্ত জানানোর অধিকার দিয়েছে আদালত।

৪৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম আইনি কারণে প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার ছদ্মনাম দেওয়া হয়েছে ‘রবার্ট’। এক দশক আগে তিনি তার এক সমকামী বান্ধবীকে সন্তান নিতে সহায়তা করার জন্য শুক্রাণু দিয়েছিলেন। আদালত এখন ওই শিশুর বাবা হিসাবেই রবার্টের অধিকারের স্বীকৃতি দিল।

শিশুটির জন্মদানকারী মা ২০১৫ সালে মেয়েসহ তার সমকামী পার্টনারকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে চলে যেতে চাইলে সমস্যার সূত্রপাত হয়। শুক্রাণুদাতা রবার্ট তখন শিশুটির নিউজিল্যান্ডে যাওয়া ঠেকাতে আইনি লড়াই শুরু করেন।

কিন্তু নিম্ন আদালত শিশুটির বাবা হিসাবে তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। যদিও শিশুটির জন্মসনদে তাকে বাবা হিসাবে উল্লেখ করা হয় এবং শিশুটিও তাকেই ‘বাবা’ ডাকত।

পাঁচ বছর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে রাবার্ট অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টের স্বীকৃতি পেলেন। আদালত বলেছে, বাবা হিসেবে বৈধ স্বীকৃতি রয়েছে ওই ব্যক্তির। এখন ওই পরিবারটি নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমাতে পারবে না।

হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়কেও ভুল বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, বাবার শিশুকে দেখার অধিকার আছে। সে কারণে শিশুটিকে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে হবে।

বিতর্কটি কী ছিল?

২০০৬ সালে কৃত্রিমভাবে শুক্রাণুদানের সময় ৪৯ বছর বয়সী রবার্ট এবং শিশুটিকে জন্মদানকারী মা একে অপরের বন্ধু ছিলেন। তারা যৌথভাবেই শিশুটিকে বড় করে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

 কিন্তু কিছুদিন পর বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা। এরপরও রবার্ট শিশুটির সব খরচসহ তার সমস্ত প্রয়োজন মিটিয়ে আসছিলেন। নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমানো নিয়ে সমস্যা শুরু হলে ওই নারীর আইনজীবী দাবি করেন, রবার্ট শিশুটির বাবা নন।

কারণ যুক্তিটি হল, কোনো শিশুর জৈবিক বাবা ‘শুক্রাণু দাতা’ হলে সেক্ষেত্রে গর্ভধারণের একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কেবল শুক্রাণু দান ছাড়া আর কোন কিছুর সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট নন। ফলে এ প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া কোন শিশুর সঙ্গেই পরে তার কোন সম্পর্ক থাকবে না বলে ধরে নেওয়া হয়।

তবে এ মামলায় তেমনটি ঘটেনি। অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টের রায়ে এটিই পরিস্কার হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি একাকী কোনো নারীকে শুক্রাণুদান করলে এবং এরপর শিশুর জীবনে ওই ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকলে তিনি আইনগতভাবে শিশুর বাবা বলে গণ্য হবেন। কথাটি বলেছেন, লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির পারিবারিক আইন বিষয়ক প্রফেসর ফিওনা কেলি।

এ রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রবার্টের আইনজীবী বিবিসি’কে বলেছেন, “কোন রোমান্টিক সম্পর্কে না জড়িয়ে বন্ধুর সঙ্গে যে বাবারা সন্তান লালন-পালন করতে চান তাদের সবার জন্য এ রায় গুরুত্বপূর্ণ।”

তবে প্রফেসর কেলি বলেন, শুক্রাণুদাতা ব্যক্তিকে শিশুটির জীবনে কতটা জড়িত থাকতে হবে সে ব্যাপারে রায়ে বিস্তারিত বলা হয়নি। ফলে এ থেকে আরো নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

বিবিসি’কে প্রফেসর কেলি বলেন, “অনেক শুক্রাণু দাতাই শিশুর সাথে কম বেশি জড়িত। কিন্তু তারা বলেন না যে, তারাই শিশুর বৈধ বাবা। তাই এ রায় তাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।”

তিনি বলেন, “এ রায় নির্দিষ্ট একটি পরিবারের সমস্যার সমাধান দিয়েছে। তবে শুধু রায়টি নয় ওই পরিবারটিও ব্যতিক্রমী। কারণ, জন্মসনদে শুক্রাণুদাতার নাম উল্লেখ থাকার ঘটনা বিরল।”

ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের প্রফেসর বেলিন্দা ফেলবার্গ বলেন, আরো অনেক আইনি অনিশ্চয়তা নিয়ে এ মামলা প্রশ্ন তুলবে ।

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

Do You Want To Contact With me?

drop us a line and keep in touch